Monday, November 26, 2018

// // 1 comment

হজরত ইমাম মাহ্‌দী ও ঈসা (আ:)-এর শুভ আগমন

***হজরত ইমাম মাহ্দী ও ঈসা (আ:)-এর শুভ আগমন কবে হতে পারে***

- লিখেছেন ডক্টর মুহাম্মাদ রুহুল আমিন।
বর্তমান পৃথিবী যুদ্ধ-বিগ্রহ, দূর্নীতি, হিংসা হানাহানিতে ভরে গেছে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক সকল ক্ষেত্রে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় আজ চরম পর্যায়ে চলে গেছে। সিরিয়ায় বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে, এই যুদ্ধ বন্ধ করার মত কোন শক্তি পৃথিবীতে নাই। এই যুদ্ধে পৃথিবীর ৮০টি রাষ্ট্র যুক্ত হবে এবং সর্বশেষ এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হবে। হাদিস অনুযায়ী একমাত্র হজরত ইমাম মাহদী (আঃ)-ই পৃথিবীতে মহাশান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তাই ইমাম মাহদী আগমনের ঘটনাটি বর্তমান পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি বিরাট ঘটনা। আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে আমরা বিস্তর গবেষণার মাধ্যমে ইমাম মাহদীর আগমনের বছরটি খুঁজে পেয়েছি। এজন্য আল্লাহ তায়ালার অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। আখেরী জামানার এই সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনাটি, আল্লাহর হাবীব রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর বংশধরের মধ্য হতে হজরত ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর শুভ আগমনের সেই বহুল প্রতীক্ষিত বছরটি আল্লাহ্ তায়ালার অশেষ রহমতে আমরা আবিষ্কার করে সারা পৃথিবীর মানুষের কল্যাণের জন্য জানিয়ে দিলাম যাতে করে মানুষ সতর্কতা অবলম্বন ও প্রস্তুতি নিতে পারে, তা না হলে বর্তমান পৃথিবীর আনন্দ উল্লাসে গা ভাসিয়ে দিলে দাজ্জালের ফিতনায় পড়ে জীবন শেষ হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এখন সামনে কি কি ঘটনা ঘটবে, দাজ্জালের ফিতনায় পড়ে মানুষ কিভাবে ঈমান হারাবে, ইমাম মাহদী ও ঈসা (আঃ)-এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিভাবে পৃথিবীতে মহা শান্তি ফিরে আসবে, তা উল্লেখ করা হলঃ

নীচের ৫টি হাদীসে উল্লেখ আছে যে, যে বছর রমজানে সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণ হবে, সেই বছরই ইমাম মাহ্দীর আর্বিভাব হবে। হাদীসে এটাও উল্লেখ আছে যে, মহাবিশ্বের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত এরকম চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের ঘটনা মাত্র একটি বছরেই ঘটবে। হাদীসগুলো এইঃ (১) ‘আল বুরহান ফি আলামাতিল মাহদি’ গ্রন্থের ৩৮ পৃষ্ঠায় আল্লামা মুত্তাকি (রঃ) একটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “যে বছর রমজান মাসের প্রথম দিকে সূর্যগ্রহণএবং রমজান মাসের শেষের দিকে চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা ঘটবে, সেই বছরই ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে।” (২) ‘আল কাওলুল মুখতাছার’ গ্রন্থের ৫৩ পৃষ্ঠায় একটি হাদীস উল্লেখ রয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “যে বছর রমজান মাসে দুটি গ্রহণের ঘটনা অনুষ্ঠিত হবে, সেই বছরই ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে।” (৩) ইমামুল আকবারআলী বিন ওমর আল দারাকুতনির ‘সুনানে দারাকুতনি’ গ্রন্থে একটি হাদিস সঙ্কলিত হয়েছে, মোহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল হানাফিয়্যাহ (রঃ) বলেছেন, সাইয়্যেদেনা ইমাম মাহদি (আঃ)-এর আবির্ভাবের দুটি নিদর্শন রয়েছে, যা আকাশমন্ডল ও ভূমন্ডলসৃষ্টির পর থেকে কখনো দৃষ্টিগোচর হয়নি, নিদর্শন দুটি হলোঃ যে বছর চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ রমজান মাসেই ঘটবে, সেই বছরই ইমাম মাহ্দীর আবির্ভাব হবে।” (৪) ইমাম রব্বানি মুজাদ্দেদী আলফেসানী (রহঃ)-এর ‘মাকতুবাতে রাব্বানী’ (রাব্বানির প্রত্রাবলী)-র ৩৮০ নম্বর পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, “যে বছর রমজান মাসের প্রথমদিকে সূর্যগ্রহণ ঘটবেএবং রমজান মাসের ১৪ তারিখে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে, সেই বছরই ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে।” (৫) ইমাম কুরতুবী (রঃ) রচিত কিতাব ‘মুখতাছার তাজকিয়াহ্’ গ্রন্থের ৪৪০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাইয়্যেদেনা ইমাম মাহদী (আঃ)-এর আগমনের পূর্বে দুটি গ্রহণ রমজান মাসেই ঘটবে। (৬) নুয়ায়েম ইবনে হাম্মাদ (রঃ) রচিত ‘কিতাবুল ফিতান’ গ্রন্থে সতর্কতামূলক বাণী উল্লেখ করা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা যখন রমজান মাসে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে, তখন এক বছরের খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে রাখবে।”

উপর্যুক্ত হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে, যে বছর রমজান মাসে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হবে সেই বছরই ইমাম মাহাদীর আগমন ঘটবে। সেই বছরটা যে কবে হবে তা আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে আমরা দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে পেরেছি। আখেরী জামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনাটি, আল্লাহর হাবীব রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর বংশধরের মধ্য হতে হজরত ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর শুভ আগমনের বছরটি আল্লাহ্ তায়ালা সারা পৃথিবীর মানুষকে জানাতে চান। এজন্য আল্লাহ তায়ালার অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি।

এই সালটা আমি কিভাবে বের করেছি সেটা নীচে বর্ণনা করা হলোঃ (১) প্রথমে প্রতি বছর রমজান কোন তারিখে শুরু হবে সেটা বের করেছি। যেমন ২০১৯ সালের রমজান কত তারিখে শুরু হবে, ২০২০ সালে কত তারিখে, ২০২১ সালে কত তারিখে ইত্যাদি। এই ভাবে ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি লিস্ট তৈরী করেছি। (২) প্রতি বছর চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহন কত তারিখে হবে সেটা বের করার জন্য নাসা-এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছি যেখানে আগামী ১০০ বছরে কোন বছর কত তারিখে চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহন হবে-তার ডাটা টেবিল আকারে উল্লেখ আছে। “নাসা” হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই নাসা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বড় বড় সরকারী প্রজেক্টের মাধ্যমে নির্ভূলভাবে গবেষণা করে বলতে পারে যে, প্রতি বছর কোন্ তারিখে, কত মিনিটে ও কত সেকেন্ডে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ হবে।
[ https://eclipse,gsfc,nasa,gov/SEdecade/SEdecade2021.html
https://eclipse,gsfc,nasa,gov/LEdecade/LEdecade2021.html
https://www,islamicfinder,org/islamic-calendar/2026/February/?type=Gregorian
https://www,islamicfinder,org/islamic-calendar/2026/March/?type=Gregorian ]
(*চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে আরবী তারিখ নির্ধারিত হয়। তাই, সামনের হিজরী বছরগুলোর সম্ভাব্য দিন-তারিখ ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।)
(৩) এরপর রমজান মাসের তালিকা এবং চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহনের তালিকা পাশাপাশি রেখে দেখা গেল যে, ২০২৬ সালে যে তারিখে রমজান শুরু হবে সেই তারিখে সূর্যগ্রহন হবে এবং ঐ বছর রজমানের ১৫ তারিখে চন্দ্রগ্রহন হবে। ২০২৬ সালে রমজান শুরু হবে ১৮ই ফেব্রুয়ারী এবং নাসার হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে ১৭ই ফেব্রুয়ারী সূর্যগ্রহণ হবে। ঐ বছর রমযানের ১৫ তারিখ পড়ে ৩রা মার্চ। আর নাসার হিসাব অনুযায়ী চন্দ্রগ্রহণ হবে ৩রা মার্চ। অর্থাৎ হাদিস ও নাসার তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর আবির্ভাবের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইমাম মাহ্দী সঠিকভাবে কবে আসবেন-এটা আল্লাহ্পাক ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। তবে হাদীসে যে ইঙ্গিতটা উল্লেখ করা আছে, সেই হিসাবে ২০২৬ সালে ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর আবির্ভাবের সম্ভাবনা কতটুকু সেটাই উল্লেখ করেছি মাত্র। সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা।
নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্বে তিনটি দূর্ভিক্ষের বৎসর আসবে। উহাতে মানুষকে দুঃসহ অনাহার ও অনশন ভোগ করতে হবে। প্রথম বৎসর আল্লাহর আদেশে এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টির বর্ষণ এবং পৃথিবী এক তৃতীয়াংশ শস্যাদির উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। দ্বিতীয় বৎসর দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টির বর্ষন কমে যাবে ও উৎপাদন দুই তৃতীয়াংশ কম হবে। তৃতীয় বৎসর আল্লাহর আদেশে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিবে। উহা হতে এক বিন্দু বৃষ্টিও বর্ষিত হবে না। সেই বৎসর আল্লাহর আদেশে পৃথিবী শস্যাদির উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিবে। উহা হতে কোনো সবুজ উদ্ভিদই উৎপন্ন হবে না। ফলে আল্লাহ যে পশুকে (জীবিত রাখতে) চাইবেন, তা ব্যতীত সকল তৃণভোজী পশুই ধ্বংস হয়ে যাবে।

উপরের হাদীস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যদি ইমাম মাহদীর আবির্ভাব ঘটে, তবে প্রক্রিয়াটা শুরু হবে আরো তিন বছর আগে থেকে অর্থাৎ ২০২৩ সাল থেকে। কারণ, ২০২৩ সালে আকাশ হতে বৃষ্টিপাত তিনভাগের একভাগ কমে যাবে। ২০২৪ সালে বৃষ্টিপাত তিনভাগের দুইভাগ কমে যাবে। ফলে পৃথিবীতে ফসল উৎপাদন কম হবে। মানুষ এবং অন্যান্য জীবজন্তু ব্যাপকহারে মারা যেতে থাকবে। ২০২৫ সালে হাদীস অনুযায়ী কোন বৃষ্টিপাত হবে না। ফলে মানুষ এবং জীবজন্তু কঠিন অবস্থায় মধ্যে পড়ে যাবে। সেই বছরই দাজ্জালের লোহার শিকল খুলে দেয়া হবে এবং সে সারা পৃথিবীতে বিচরণ করবে এবং মানুষের সামনে এসে ঈমান হরণ করে নিবে। যেহেতু পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে পৃথিবীর মানুষ ও জীবজন্তু চরম খাদ্যভাবে পড়ে যাবে। তাই হাদীসে খাদ্য সঞ্চয় করে রাখার কথা বলা হয়েছে। মানুষ খাদ্য ও পানির অভাবে যখন ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা তখন দাজ্জাল তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে এবং খাদ্যের ভান্ডার নিয়ে সুমধুর সুরে গান করতে করতে বিভিন্ন শহরে বন্দরে যাবে। গান পাগলা মানুষ মধুর বাদ্যযন্ত্র শুনে বলতে থাকবে, এই সুমধুর আওয়াজ কোথা থেকে আসছে। বিভ্রান্ত মানুষগুলো দলে দলে দাজ্জালের সামনে এসে হাজির হবে। দাজ্জালর ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে খাদ্য ও পানি সরবরাহ করবে, মানুষ খাদ্য ও পানি পান করে তৃপ্ত হবে। দাজ্জাল তখন বলবে, আমি তোমাদেরকে খাদ্য ও পানি দান করেছি ও শান্তি দিয়েছি, আমি কি তোমাদের প্রভু নহি? বিভ্রান্ত মানুষ তখন সমস্বরে বলবে, হ্যাঁ, তুমিই তো আমাদের প্রভু, তুমি না আসলে আমরা এ অবস্থা হতে বাঁচতে পারতাম না। এভাবে তারা দাজ্জালের ফিতনায় পড়ে ঈমান হারাবে।

সারা পৃথিবীতে যখন দাজ্জালের ফেতনা চলতে থাকবে এবং দাজ্জালের ফেতনায় পড়ে মানুষ ঈমান হারিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হবে। এইভাবে পৃথিবীর তিন ভাগের দুইভাগ মানুষ মারা যাবে। দুইভাবে মানুষ মারা যাবে। একটা হল Red Death অন্যটা হল White Death. Red Death অর্থাৎ যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে রক্তপাতের ফলে মানুষ মারা যাবে। আর, White Death হল বিভিন্ন ধরনের মহামারীতে ব্যাপক হারে মানুষ মারা যাবে। বর্তমানে চলছে ২০২১ সাল। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী এটা হচ্ছে আখেরী জামানা অর্থাৎ শেষ জামানা। এখন যতই বছর যাবে ততই পৃথিবীর মানুষের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাবে। এই জমানার শেষের দিকে ভয়ংকর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে। এটা হবে Red Death.
বর্তমানে পৃথিবীতে ১৫ হাজার নিউক্লিয়ার বোমা মজুত আছে। তার মধ্যে রাশিয়ার কাছে আছে ৭ হাজার ও আমেরিকায় আছে ৭ হাজার এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আরও ১ হাজার আছে। এক একটা বোমায় বড় বড় শহরের কোটি কোটি মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমায় যে বোমাটি পড়েছিল, তাতে ৬০ হাজার লোক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মারা যায়। বর্তমানের বোমাগুলি ঔ বোমার চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী। ২০২৬ সালে যদি ইমাম মাহ্দী আসেন তাহলে নিউক্লিয়ার যুদ্ধটা শুরু হবে আরো আগে থেকে। কারণ উপরের হাদীস থেকে জানা যায় যে, এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইমাম মাহ্দী আসবেন। দাজ্জাল বের হবে, দাজ্জাল সারা পৃথিবী ব্যাপী ফিতনা সৃষ্টি করবে। দাজ্জাল কয়েক বছর অবস্থান করবে। পৃথিবীতে দেশে দেশে যুদ্ধবিগ্রহ চলতে থাকবে আর দাজ্জালের ফিতনা চলতে থাকবে। ফলে দাজ্জালের ফিতনায় পড়ে এবং যুদ্ধবিগ্রহে কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে। কেউ কারও নিয়ন্ত্রনে থাকবে না। কোন দেশ আরেক দেশের কথা শুনবে না। প্রত্যেক দেশ নিজ নিজ ক্ষমতা প্রদর্শন করবে। এই ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নিউক্লিয়ার বোমা। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জাপানকে কোন মতে হারানো যাচ্ছিল না। তখন আমেরিকা জাপানের হিরোশিমায় পৃথিবীর প্রথম নিউক্লিয়ার বোমাটি নিক্ষেপ করে। সাথে সাথে ৬০ হাজার লোক মারা যায়। এই বোমার রেডিয়েশনে দুই বছরের মধ্যে ১ লক্ষ লোক মারা যায়। এত প্রচন্ড শক্তি ছিল এই একটি বোমাতে।
এটা হলো ১৯৪৫ সালের ঘটনা। বর্তমানে অর্থাৎ ২০২১ সালে রাশিয়া ও আমেরিকায় এমন এমন নিউক্লিয়ার বোমা মওজুদ আছে যা জাপানের হিরোশিমায় ফেলা বোমার থেকে ১ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ পৃথিবীর বড় একটি শহর যেমন নিউইয়র্ক, টরেন্টো, মস্কো, ঢাকা একেকটা বোমায় উড়ে যাবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কালো কয়লায় পরিণত হবে। আপনার আমার চোখের সামনেই এ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমেরিকার ৭ হাজার বোমার নিউক্লিয়ার বাটনটি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের টেবিলে থাকে। এই বাটনকে বলা হয় “Nuclear Biscuit”. এখন সব বোমা রেডি আছে। এটা হল ২০২০ সাল, এখন আমাদের বুঝতে হবে যে, কবে কখন এই নিউক্লিয়ার যুদ্ধটা শুরু হতে যাচ্ছে। এখন এ অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় কি?

এই নিউক্লিয়ার যুদ্ধের শেষের দিকে পৃথিবীর মানুষ মরতে মরতে যখন তিনভাগের দুই ভাগ মানুষ মারা যাবে, তখন খাঁটি মুমিন বান্দারা আল্লাহতায়ালার কাছে আকুতি মিনতি করে কাঁদতে থাকবে আর বলতে থাকবে, হায়! হায়! আমাদের কি হবে? মুসলমানদের কি হবে? হে আল্লাহ! মুসলমানদের জন্য একজন নেতা পাঠান, যিনি আমাদেরকে এই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পারবেন।

ঐ বছরের হজ্ব পড়বে শুক্রবার। শুক্রবারের হজ্বকে বলা হয় ‘হজ্বে আকবার’। ২০২৬ সালে ১০ই জিলহজ্ব পড়ে শুক্রবার। তারিখটা হল ২ মে, ২০২৬ সাল। ঐ দিন দুপুর বেলায় জুম্মার সময় কা’বা শরীফের মূলতাজাম ও হাজরে আসওয়াদ-এর মাঝখানে যখন ইমাম মাহ্দী কাবা ঘর তাওয়াফ করতে করতে আসবেন তখনই জিবরাইল (আঃ) ঘোষণা করবেন যে, ইনিই ইমাম মাহ্দী। তখন মুসলমানেরা দলে দলে ইমাম মাহ্দীর হাতে বাইয়াত গ্রহন করবেন।

হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সৈয়দ বংশোদ্ভুত ও হযরত ফাতেমা জোহরা (রাঃ)-এর বংশধর হবেন। তাঁর প্রকৃত নাম হবে মুহাম্মাদ, পিতার নাম আবদুল্লাহ ও মাতার নাম আমিনা। তিনি 'ইলমে লাদুন্নি অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ বিদ্যা ও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী হবেন, যা একমাত্র হযরত খাজা খিজির (আঃ) ও হযরত রাসুলে আকরাম (সাঃ) ব্যতীত অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। তাঁর মুখাকৃতি অবিকল হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ন্যায়, গায়ের রং ফর্সা, আকৃতি লম্বা ও ছিপছিপে পাতলা ধরনের হবে। মুসলমানগণ খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর হতেই একজন উপযুক্ত নেতার সন্ধান করতে থাকবে, যাঁর নেতৃত্বে তারা যাতে পুনরায় তাদের হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারে। রাসুলে আকরাম (সাঃ) ভবিষ্যৎ বাণী করেছেন যে, যে বৎসর রমযান মাসে চন্দ্র গ্রহণ ও সুর্য গ্রহণ সংঘটিত হবে, ঠিক সেই বৎসরই ইমাম মাহদী (আঃ) আত্মপ্রকাশ করবেন। ইতিমধ্যে এক বৎসর রমযান মাসে ঠিক উভয় গ্রহণ সংঘটিত হলেই মুসলমানগণ হযরত ইমাম মাহদির খোঁজ করতে থাকবে। এই সুযোগে কতিপয় ভন্ড নিজেদেরকে ইমাম মাহদি বলে দাবী করবে। কিন্তু যিনি প্রকৃত ইমাম মাহদি, তাঁর উপরে লোকে খেলাফতের বিরাট দায়িত্ব চাপিয়ে দেবে, এই আশংকায় তিনি স্বীয় পরিচয় প্রদান করবেন না; বরং তিনি মদীনা হতে মক্কায় গিয়ে আত্মগোপন করে খানায়ে কা’বায় তাওয়াফে লিপ্ত থাকবেন। ঠিক এই সময় কতিপয় লোক তাঁকে প্রকৃত ইমাম মাহদি (আ.) বলে চিনতে পারবে ও তাঁর হাতে বাইয়াত হবে এবং তাঁকে খেলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করবে। হযরত ইমাম মাহদির (আঃ) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার সংবাদ প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মদীনার সমস্ত সৈন্য সামন্ত ও নেতৃস্থানীয় লোকগণ মক্কায় তাঁর নিকট চলে আসবে এবং মক্কার অগনিত লোকও তাঁর নিকটে বাইয়াত হবে ও তাঁর সেনাদলে ভর্তি হবে।শাম, ইরাক ও ইয়ামানের অগণিত আওলীয়া ও আবদালগণ তাঁর পতাকা তলে সমবেত হবেন। হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) খানায়ে কা’বার নিম্নে প্রোথিত বিপুল পরিমাণ গুপ্তধন বের করে মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করে দেবেন। ওদিকে মুসলিম সেনা দলের সংঘবদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে খৃষ্টানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে সৈন্য যোগাড় করে বিরাট সেনাবাহিনী গঠন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় সমবেত হবে। তাদের সেনা দলে সর্বমোট আশিটি পতাকা থাকবে এবং প্রত্যেক পতাকার অধীনে বারো হাজার করে সৈন্য থাকবে। হযরত ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাদল দামেস্কের নিকট পৌঁছলে খৃষ্টানদের সাথে তাদের একটা খন্ড যুদ্ধ হবে। এই সময় মুসলিম সেনাদল তিনদলে বিভক্ত হয়ে একদল খৃষ্টানদের ভয়ে রণক্ষেত্র পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাবে, এক দল বিপুল বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে শহীদ হবে এবং অপর একদল আল্লাহর অসীম রহমতে জয়লাভ করবে। অতঃপর তিনি রাজ্যের শৃঙ্খলা বিধান, শান্তি স্থাপন ও সুষ্ঠুভাবে রাজ্য পরিচালনার দিকে মনোনিবেশ করবেন।-(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

দাজ্জাল সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী কোনো স্থান হতে আবির্ভুত হবে। দাজ্জালের একটা ফিতনা এই হবে যে, সে কোনো গ্রাম্য লোককে বলবে, যদি আমি তোমার মৃত মাতা-পিতাকে পুনর্জীবিত করে দেই, তবে কি তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আমি তোমার প্রতিপালক প্রভূ? লোকটি বলবে, হাঁ! আমি এইরূপ সাক্ষ্য দিব! অতঃপর শয়তান উক্ত লোকটির মাতা ও পিতার রূপ ধরে তার সম্মুখে উপস্থিত হবে। তারা বলবে, ওহে বৎস! তাকে মানিয়া লও। তিনি তোমার প্রতিপালক প্রভূ। দাজ্জালের একটি ফিতনা হবে এই যে, কোনো গোত্র তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করলে তাদের গৃহপালিত পশু ধ্বংস হয়ে যাবে। কোনো গোত্রের লোকেরা তাকে সত্যবাদী বলে গ্রহণ করলে সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে আদেশ করবে আর আকাশ তার আদেশ মুতাবিক বৃষ্টি বর্ষণ করবে। সে পৃথিবীকে উদ্ভিদ ও ফসল উৎপাদন করতে আদেশ করবে আর পৃথিবী তার আদেশে উদ্ভিদ ও ফসল উৎপাদন করবে। তাদের গৃহপালিত পশুগুলি সেই দিনেই মোটা, তাজা, উচু, লম্বা ও বলিষ্ঠ হয়ে যাবে। উহাদের উদর ও পার্শ্বদ্বয় প্রশস্ত হয়ে যাবে এবং উহাদের দুগ্ধবর্তী পশু পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। অথচ ইতোপূর্বে উহারা কখনো এইরূপ ছিল না। দাজ্জালের একটি ফিতনা এই হবে যে, সে পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করবে এবং পবিত্র মক্কা ও পবিত্র মদীনা ভিন্ন সমুদয় পৃথিবী সে অধিকার করে নিবে। পবিত্র মক্কা ও পবিত্র মদীনার যে পথ দিয়েই সে প্রবেশ করতে চেষ্টা করবে, সে পথেই ফেরেশতাগণ সুতীক্ষ্ম তরবারী দ্বারা তাকে প্রতিহত করবে। অতঃপর সে সাবখা সীমান্তে অবস্থিত ‘আয- যরীবুল আহমার’ নামক স্থানে আগমণ করবে। এই সময়ে পবিত্র মদীনায় তিনটি ভুমিকম্প সংঘটিত হবে। ইহাতে সকল মুনাফিক নর-নারী উহা হতে বের হয়ে গিয়ে দাজ্জালের সহিত মিলিত হবে। লৌহকারের হাপর যেরূপে লোহাকে মরিচামুক্ত করে দেয়, সেইরূপে মদীনা তখন অপবিত্র আত্মা হতে নিজেকে মুক্ত ও পবিত্র করে ফেলবে। এই যুগটি ‘নাজাতের যুগ’ নামে অভিহিত হবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)
হযরত ইমাম মাহদীর (আঃ) আবির্ভাবের পর হতে এই সময় পর্যন্ত সাত বৎসর অতীত হবে। এই সময় একটা সংবাদ প্রচারিত হবে যে, দাজ্জালের আবির্ভাব হয়েছে এবং তারা মুসলমানদের উপরে ভীষণ অত্যাচার করছে। দাজ্জালের সেনাবাহিনী যখন মুসলমানদের উপরে অসহনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন করতে থাকবে, সে সময় হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) দামেস্ক অবস্থান করবেন। এই সময় একদা দামেস্কের জুমু'আর মসজিদে মুয়াজ্জিন আছরের নামাযের আযান দিলে মুসল্লীগণ নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে। ঠিক এমন সময় দু’জন ফেরেশতার কাঁধে ভর করে হযরত ঈসা (আঃ) মসজিদের পুর্বদিকের মিনারের উপরে অবতরণ করবেন এবং সেখান থেকে তিনি একটা সিঁড়ি দেয়ার জন্য মুসল্লীদেরকে আহ্বান করবেন। মুসল্লীগণ সিঁড়ি দিলে তিনি নিচে নেমে এসে হযরত ইমাম মাহদীর (আঃ) সাথে মোসাফাহ করবেন। এরপর ইমাম মাহদী তাকে নামাযের ইমামতি করতে অনুরোধ করবেন, কিন্তু হযরত ঈসা (আঃ) তাতে অসম্মতি জানিয়ে বলবেন, না, আমার জামানায় জামা'আতে নামাজ পড়ার বিধান ছিল না, আমি কোন দিন কোন জামা'আতের ইমামতি করিনি। একমাত্র দ্বীনে মুহাম্মাদি (সাঃ) -তেই জামা'আতে নামাজ পড়ার ও জামা'আতে ইমামতি করার বিধান আছে, সুতরাং আপনিই ইমামতী করুন। অতঃপর হযরত ইমাম মাহদী (আঃ)-ই ইমামতী করবেন এবং হযরত ঈসা (আঃ) তাঁর পিছনে মোক্তাদী হয়ে আছরের নামায পড়বেন। তারপর ইমাম মাহদী (আঃ) দাজ্জালের আবির্ভাব ও মুসলমানদের উপর তার অমানুষিক অত্যাচার সম্বন্ধে আলাপ আলোচনা করবেন। নামায শেষ হবার পর হযরত ঈসা (আঃ) বলবেন, তোমরা দরওয়াজা খোলো। দরওয়াজা খোলা হবে। দেখা যাবে, উহার বিপরীত দিকে দাজ্জাল অবস্থান করছে। তার সহিত সত্তর হাযার ইহুদী রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের নিকট তরবারি ও তাজ রয়েছে। হযরত ঈসা (আঃ) দাজ্জালের দিকে তাকাতেই গলে যেতে থাকবে, যেমন গলে যায় পানির মধ্যে লবণ। সে পালাতে চেষ্টা করবে। কিন্তু হযরত ঈসা (আঃ) তাকে বলবেন, তোমাকে আমি নিশ্চয় একটি আঘাত করব। উহা হতে তুমি কিছুতেই রেহাই পাবে না। এদিকে হযরত ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে হত্যা করতে অগ্রসর হবেন আর অপর দিকে মুসলিম সেনাগন দাজ্জালের দলবলকে আক্রমন করবে। পাপীষ্ঠ দাজ্জাল হযরত ঈসা (আঃ)-কে দেখেই উর্ধ্বশ্বাসে দৌঁড়ে পালাতে চেষ্টা করবে, কিন্তু হযরত ঈসা (আঃ)-এর হাত হতে সে নিষ্কৃতি পাবে না। একদিকে মুসলিম সেনাগণ দাজ্জালের সহচরদেরকে পঙ্গপালের ন্যায় হত্যা করতে থাকবে। উপায়ন্তর না দেখে তারা পাহাড় পর্বত, বন জঙ্গলে আশ্রয় গ্রহণ করবে, কিন্তু মুসলমান সৈন্যদের হাত হতে তারা কেউই রক্ষা পাবে না। তিনি পুর্বদিকে অবস্থিত ‘লুদ’ প্রান্তে তাকে পাকড়াও করে হত্যা করবেন। এভাবে আল্লাহ তাআলা ইহুদীদিগকে পরাজিত করবেন। প্রস্তর, বৃক্ষ, প্রাচীর, চতুষ্পদ প্রাণী ইত্যাদি যে কোনো বস্তুর আড়ালেই ইহুদীগণ আশ্রয় লউক, আল্লাহ তাআলা সেইদিন সেইগুলিকে ভাষা দিবেন। উহারা ডেকে বলবে, ওহে আল্লাহর মুসলিম বান্দাগণ। এই একজন ইহুদী। আসো উহাকে হত্যা করো। তবে বাবলা বৃক্ষ তাদেরই বৃক্ষ। উহা মুখ খুলবে না।-(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

দাজ্জালের মৃত্যুর পর হযরত ঈসা (আঃ) ও হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) একত্রে দাজ্জালের অত্যাচারিত দেশসমূহে ভ্রমন করে সর্বত্র শান্তি স্থাপন ও শাসন শৃংখলা বিধান করবেন। তাঁরা উভয়েই সেসব দেশের ইহুদী খৃষ্টানদেরকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা গ্রহণের জন্য আহ্বান করবেন। যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে না, তাদেরকে হত্যা করা হবে। ফলে তখন দুনিয়ার বুকে আর একজন অমুসলমানও থাকবে না। এর কিছুকাল পরে উনপঞ্চাশ বছর বয়সে ইমাম মাহদী (আঃ) ইন্তেকাল করবেন ও হযরত ঈসা (আঃ) রাজ্য পরিচালনা করতে থাকবেন। দেশের জনসাধারণের মধ্যে আবার পরম সুখ-শান্তি ফিরে আসবে। হযরত ঈসা (আঃ) আসমান হতে অবতরণের পর মোট চল্লিশ বৎসর দুনিয়াতে অবস্থান করবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিবাহ করবেন এবং তাঁর সন্তান-সন্তুতি জন্মগ্রহণ করবে। হযরত ঈসা (আঃ) পূর্বে যখন দুনিয়ায় এসেছিলেন তখন তিনি বিবাহ করেননি, এমন কি বসবাস করার জন্য তাঁর নিজস্ব কোন ঘর-বাড়ী পর্যন্ত ছিল না। দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় আগমনের চল্লিশ বৎসর পর তিনি মদীনায় ইন্তেকাল করবেন এবং হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র রওজা মোবারকের নিকট তাঁকে সমাহিত করা হবে।-(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

আল্লাহ তায়ালা কোরআন শরীফে সূরা কাহাফ নাযিল করেছেন। কাহাফ আরবী শব্দ। এর অর্থ গর্ত। সাত জন যুবক এক গর্তে ঘুমিয়ে ছিল ৩০৯ বছর। এই সাতজন যুবকের কবর সিরিয়া এবং বেথেলহামের মাঝে এক জায়গায় আছে। ঈসা (আঃ) যখন পৃথিবীতে আগমন করবেন, তখন অলৌকিকভাবে এই সাতজন যুবক জীবিত হবেন। এই কবরের পাশে একটি গাছ সেই যুগ থেকে এখনও পর্যন্ত জীবিত আছে। হযরত ঈসা (আঃ)-এর বিবাহ অনুষ্ঠান এই গাছের নীচে হবে এবং বেহেশত থেকে এই বিবাহ অনুষ্ঠানের খাবার আসবে। আখেরী জামানার ঘটনার সাথে এই সূরার সম্পর্ক আছে বিধায় সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত মুখস্ত রাখলে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। হযরত ইবনে আব্বাস ও আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি জুমআর দিন অথবা তার রাতে সূরা কাহফ পাঠ করে, তাকে তার পড়ার স্থান থেকে মক্কা শরীফ পর্যন্ত নূর দান করা হয় এবং দ্বিতীয় জুমআ ও আরও তিন দিনের মাগফেরাত করা হয়। সত্তর হাজার ফেরেস্তা সকাল পর্যন্ত তার প্রতি রহমত প্রেরণ করে। সে ব্যথা, পেটের ফোড়া, বাত, কুষ্ঠ এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকে। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত মুখস্ত রাখলে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।-(তাফসীরে ইবনে-কাসীর)
[*আরবি তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।]
***
(ঈষৎ সম্পাদিত)
কার্টেসীঃ ডক্টর মুহাম্মাদ রুহুল আমিন।
দৈনিক ইনকিলাব।
[ https://www,dailyinqilab,com/article/157220/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%93-%E0%A6%88%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%28%E0%A6%86%29-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%AE%E0%A6%A8/
https://www,dailyinqilab,com/article/158654/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%93-%E0%A6%88%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%28%E0%A6%86%29-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%AE%E0%A6%A8
https://www,dailyinqilab,com/article/159973/%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%93-%E0%A6%88%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%28%E0%A6%86%E0%A6%83%29-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%AE%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87
https://www,dailyinqilab,com/article/161348/%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%93-%E0%A6%88%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%28%E0%A6%86%E0%A6%83%29-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%AE%E0%A6%A8

Remove comma (,) from URL ] 

1 comment:

  1. মহান আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।।

    ReplyDelete